‘কী সব ছবি! সাংঘাতিক!’

    0
    500

    {CAPTION}

    রবিবার, ০১ জানুয়ারি ২০১৭, নোঙর নিউজডটকম: রাজধানীসহ সারাদেশে যত্রতত্র প্ল্যাকার্ড-বিলবোর্ডে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের ছবি ব্যবহার নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
    শনিবার নির্বাচন কমিশনের নতুন ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ছবির কালচার এটা একটা মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করছে। আমার মনে হয় এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন শুড বি আনকম্প্রোমাইজড। ছবি লাগানোই যাবে না- এমন সিস্টেম করা দরকার।”
    অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যের বাইরে আবদুল হামিদ বলেন, “ছবি দেখলে ভালোই লাগে। সবারই ভালো লাগে। তার জন্য মানুষে ছবির অ্যালবাম রাখে। অনেক সময় অতীতের, বাল্যকালের ছবি রাখে।
    “আজকে আমি নির্বাচন কমিশনে আসছি। ভিতরে আমার ছবি রাখা আছে, সমস্যা নেই। কিন্তু রাস্তায় যে ছবি, এটা আমার ভালো লাগে নাই। কারণ ছবির যে কালচার বাংলাদেশে শুরু হইছে, এই কালচারটা আমার ভালো লাগে না। রাস্তার মধ্যে ছবি, ছবি আর ছবি। কী আর বলব।”
    এসময় নিজের রাজনৈতিক জীবনে পোস্টারে ছবির ব্যবহার নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদ।
    “পাকিস্তান আমলে আমি তিনবার জেলে গেছি। ১ বছর ১ মাস জেলে ছিলাম। একটা ছবির পোস্টারও ছিল না। কিছু কিছু পোস্টার ছিল। তাও পত্রিকার কাগজ…কারণ কাগজেরও দাম… আগের পড়া পত্রিকার উপর লাল-কালো কালি দিয়ে লেখা হইছে ‘হামিদ ভাইয়ের মুক্তি চাই’। আজকালকার ছবি…পুলিশের ধরে নিলেই পরের দিন ছবি। কী ধরনের সুন্দর ছবি। নায়ক-নায়িকার মতো ছবি। এমনকি চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই কেসের আসামিও জেলে গেলে তারও.. অমুক ভাইয়ের মুক্তি চাই… ছবি।
    “এই যে ছবির কালচার, এটা একটা মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করছে। নেতা-কর্মীরা করে কী, নিজের ছবিটা অনেক বড় করে দিয়া উপরে তার দলের নেতা-নেত্রীর ছবি কোনার মধ্যে দিয়া; বড় কইরা তার নিজের নামডা লিখা দিছে। এমন ছবিও আমি দেখি.. অনেক নেতা-নেত্রী বাস্তবে দেখতে সুন্দর দেহা যায় না। কিন্তু ছবির মধ্যে নায়ক-নায়িকা!”
    যত্রতত্র ছবি ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
    কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক টানে আবদুল হামিদ বলেন, “এই যে ছবির কালচারের ব্যাপারটা মূলত লক্ষ্য থাকে নির্বাচন-রাজনীতি। কিন্তু এ পরিচিতি দিয়া কী হবে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কিছু আইন-কানুন করা যায় কীনা। ছবি যত্রতত্র লাগানো… এমনও আছে নির্বাচনের সময় ছবি সাদাকালো- কিন্তু তফসিল ঘোষণার আগেই বিলবোর্ডে, মাল্টিকালার ছবি দিয়া রাখে। এবং এটা অনেক সময় নির্বাচন কমিশন থেকে বললে লুকায়। আমার মনে হয় এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন শুড বি আনকম্প্রোমাইজড। ছবি লাগানোই যাবে না-এমন সিস্টেম করা দরকার।”
    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময় নিজের কারাবাসের কথাও তুলে ধরেন আবদুল হামিদ।
    “জিয়াউর রহমান সাহেব যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আমি ২ বছর ২ মাস জেলে ছিলাম। একটা ছবিও নাই। আর এখন কী ছবি! সাংঘাতিক দামি দামি ছবি। আর্ট পেপারের মধ্যে ছবি। এ ব্যাপারে কিছু করা দরকার। ঢাকা শহরে যত দেয়াল আছে, ইলেকট্রক পোল, ডিভাইডারের মাঝে গাছের ফাঁকেও ছবি লাগায়। ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এরকম অকেশন আসলে ছবি দিয়েই ঢাকা পড়ে যায়।
    “একটা ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদের নির্বাচন, যারা দাঁড়ায় তাদেরতো চিনে। তাদের ছবি লাগানোর দরকার কী? এমপি ইলেকশনের সময় দিতে পারে… এলাকা বড়, তাও বলা আছে সাদাকালো। কিন্তু আগে-পরে বিলবোর্ড দেওয়া যাবে না। কালার ছবি, কী কাগজ বলে যেন… আর্ট পেপার… এগুলো বন্ধ করতে হবে। কী একটা কালচারের মধ্যে যে পড়লাম বুঝি না। এ থেকে ক্যামনে মুক্ত হওয়া যায় সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে।”
    আবদুল হামিদ বলেন, “এমনও আছে সরকারি দল-বিরোধী দলের নেতারা এলাকায় যায়, তারা রাস্তায় শতশত গেইট করে। কোন কোন নেতা, আমি শুনছি… দেখছিও, গেট কয়ডা আছে তা নিজেরাই গোনে। টাকা কয়টার জন্য দিছে, কয়টা হইছে, এইডা গোনে।”
    কিশোররগঞ্জের ইটনা-মিঠামাইন-অষ্টগ্রাম থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হামিদ বলেন, “আমি যখন এমপি ছিলাম কোন গেইট করতে দেই নাই। আরেকটা কালচার আছে, যখন এলকায় যায়, ৫০-১০০ মোটর সাইকেল নিয়ে শোভাযাত্রা করে।”
    কিছুটা ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “ইট শুড বি স্ট্রিক্টলি স্টপড। হোয়াট ইজ দিস? নিজের এলাকায় যাচ্ছে, শোভাযাত্রা করে নিয়ে যাচ্ছে। এত মানুষ দিয়ে.. করার দরকার কী।
    “আমি যখন প্রথম ডেপুটি স্পিকার হইলাম। এলাকার লুক খুশি হইয়া গেট করবে। আমি বললাম তিন থানায় তিনডা গেট কর। কিশোরগঞ্জেও বললাম একটা। কিন্তুত সেটা কন্ট্রোল করতে পারি নাই ৫-৭টা হয়ে গেছিল। কিন্তু (নির্বাচনী) এলাকায় একটার বেশি করতে দেই নাই। স্পিকার হওয়ার সময়ও একটার বেশি করতে দেই নাই। এগুলি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা উচিৎ।”
    অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “মাননীয় স্পিকার আছেন, এগুলি পার্লামেন্টে বলতে পারেন। এই সংষ্কৃতি থেকে বের হওয়া দরকার।
    “আজকে নির্বাচন কমিশন করার আগে আমি রাজনৈতিক দলের লগে কথা বলতেছি। আজকে নির্বাচন কমিশনের একটা অনুষ্ঠান। এত সুন্দর একটা বিল্ডিং হইলো। আপনারা কেন এইখানে আইবেন না। এখানে আসলে ভালো হইতো। কয় নির্বাচন কমিশন ডাকে না। নিশ্চয় দাওয়াত দিছে।”
    তিনি আরও বলেন, “আশা করছিলাম সাবেক সব প্রধান নির্বাচন কমিশনার যারা জীবিত আছেন, তারা থাকবেন। যারা নির্বাচিত হয় মানে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকলে ভালো হতো। কিন্তু সেটা হয়নি। মাননীয় স্পিকার এখানে আছেন, অভাব কিছুটা দূর হয়েছে।
    “সময় বেশি নিয়ে যাচ্ছি… সবদিকে মন মানসিকতা উন্নত করতে না পারি তাহলে কিন্তু আরও সাফার করতে হবে। ভালো জিনিস সবাই চায়, কিন্তু ক্যামনে পাব ভালো জিনিস, সে ব্যাপারে অবদান রাখবেন না সেইটা হবে না।”

    একটি উত্তর ত্যাগ

    আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
    এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে