৫৩ বছরে দেশের নৌপথে নিহত ২০,০০০ শহীদের স্মরণে ২৩ মে, ‘জাতীয় নদী দিবস’ ঘোষণা চাই

0
27

বিশ্ব নদী দিবস পালিত হয় প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ রোববার। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় নদী দিবস থাকবে না?

নৌ নিরাপত্তা বিষয়ক সংগঠন নোঙর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আমরা দুই দশক ধরে নৌ নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। বিশেষ করে ২৩ মে তারিখকেই জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার কথা বলে আসছি। কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আমাদের বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যেহেতু সরকারিভাবে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হয়ে থাকে, তাই আরেকটি নৌ নিরাপত্তা দিবস পালন কারিগরিভাবে কঠিন। প্রশ্ন হচ্ছে, ২৩ মে তারিখকে তাহলে আমরা কি স্মরণ করব না?
বাংলাদেশে শেষ নৌ-দূর্ঘটনা ঘটে চলতি বছর ১১ এপ্রিল বিকেলে সদরঘাটে লঞ্চ টার্মিনালের ১১ নম্বর পল্টুনের সামনে তাসরিফ-৪ নামে একটি লঞ্চের ধাক্কায় ছিঁড়ে আসা রশির আঘাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশের মানুষ নৌপথ ব্যবহার করবে সেইতো স্বাভাবিক। কিস্ত অবাক বিষয় হচ্ছে যে, গত ৫৩ বছরে রাষ্ট্রিয় অবহেলায়, অতিলোভী লঞ্চ মালিকদের চলাচলের অযোগ্য লঞ্চ দূর্ঘটনায় নৌপথে প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ মৃত্যু বরণ করেছে। তাই নোঙর সেই সব হতভাগ্য মানুষদের স্মৃতি স্মরণে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৩ মে, কে জাতীয় নদী দিবস দাবি করে আসছে।
আমাদের মনে আছে, ২০০৪ সালের ২৩ মে রাতে চাঁদপুরের কাছে মেঘনাসহ বিভিন্ন নদীতে চারটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যায়। মাদারীপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে চাঁদপুরে ঝড়ের কবলে পড়া ‘এমভি লাইটিং সান’ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন আমার মা আছিয়া খাতুন। ওই রাতেই এমভি দিগন্ত ও এমএল মজলিশপুর নামে আরও দুটি লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আমার মাসহ তিন শতাধিক যাত্রী ওই রাতে প্রাণ হারান। কিন্তু সেটাই লঞ্চ ডুবে প্রাণহানির শেষ ঘটনা ছিল না। গত দুই দশকে আরও অনেক প্রাণ হারিয়ে গেছে নদীতে।
দেশের ৪৩ শতাংশ নৌ-দুর্ঘটনা অন্য নৌযানের সঙ্গে ধাক্কায়, ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে এবং ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঘটে। ২০০৪ সালের ২৩ মে মাদারীপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে চাঁদপুরে ঝড়ের কবলে পড়ে ‘এমভি লাইটিং সান’ লঞ্চ। ওই রাতেই এমভি দিগন্ত ও এমএল মজলিশপুর নামে আরও দুটি লঞ্চ দুর্ঘটনায় কবলে পড়লে কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়।
নৌ-দুর্ঘটনা এখন নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং অনেকাংশে এটা দুর্যোগের পর্যায়ে চলে গেছে। নৌপথে এমন বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে নৌ-দুর্ঘটনা পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। যাত্রীবাহী বড় জাহাজ বা জলযানে জীবন রক্ষাকারী ছোট নৌকাসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ আছে কিনা যাত্রার আগেই তা পরীক্ষা করা, দুর্ঘটনার কবল থেকে উদ্ধারের উপায় সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়ার দাবি রয়েছে এর মধ্যে।
লঞ্চে বা ফেরিতে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞতার কারণে তা অব্যবহৃত থেকে যায় মন্তব্য করে সুমন বলেন, “অতিরিক্ত যাত্রী বহন কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের নিজেদেরকেও সচেতন হতে হবে।”
এমভি লাইটিং সান দুর্ঘটনার আমার মা আছিয়া খাতুনও নিহত হন। সেই স্মৃতি স্মরণ দেশ, মানুষ, নদী ও প্রকৃতির স্বার্থে এই ধারা অব্যাহত রাখতে গত ৫৩ বছরে দেশের নদীপথে ২০,০০০ নিহত শহীদের স্মরণে ২৩ মে ‘জাতীয় নদী দিবস ঘোষণা’সহ দেশের সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা পদ্মা এবং মেঘনা নদীর মোহনায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ এবং নদী সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণা ইনিস্টিটিউট নির্মাণ করা হোক।
পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চল বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই নদীমাতৃক এ দেশের নৌপথ সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। অথচ সেই নৌপথে মৃত্যু আতঙ্ক যেন যাত্রীদের সঙ্গেই ঘোরে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে রাজধানী ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন দুই লাখ যাত্রী নৌপথে যাতায়াত করে থাকে। তখন আমরা এক আতঙ্কিত সময় পার করি। কারণ আবার কোথাও কোনো নৌডুবি হবে না তো?
নদীমাতৃক দেশ, অথচ এ দেশের নদ-নদীর বুকে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন আমাদের রাষ্ট্রীয় অবহেলা আর ব্যবসায়ীদের অতিলোভের কারণে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দেশের নৌপথ সবার অবহেলার একটি পথ! যে নদীগুলো বাংলাদেশকে মায়ের মমতা দিয়ে বুকে ধারণ করছে, সেই মায়ের বুকে আঘাতের পর আঘাত করে চলেছে মুষ্টিমেয় লোক। নৌপথ নিরাপদ না হলে নদীমাতৃক দেশও নিরাপদ হবে না। কারণ এই নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশপ্রেম, মায়ের মমতা।
মনে আছে, এমভি পিনাক লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় নদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদী নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলেছিলেন তিনি। তিনি যথার্থই বলেছিলেন, ঝড়ের সময় যাত্রীবাহী নৌযান কীভাবে টিকে থাকবে– সে বিষয়ে চিন্তা না করে বেশি বেশি লাভের জন্য বেশি বেশি কেবিন বানানো, বেশি করে যাত্রী ওঠানোর কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এমনভাবে নকশা করতে হবে যেন নৌযান নদীতে না ডোবে।
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে– এমনটি বলা যাবে না। নৌ দুর্ঘটনাও থেমে নেই। এখনও আমরা একটি জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার দাবিতে প্রতিবছর আন্দোলন করি। অব্যবস্থাপনার কারণে নদীতে নিহত সবার স্মৃতির উদ্দেশে একটি জাতীয় নদী দিবস ঘোষণা সত্যই জরুরি।
অনেকেই জানেন, গত দুই দশকে ‘নোঙর’ এ দেশের নৌপথ নিয়ে অনেক কথা বলেছে; অনেক যাত্রীকে সচেতন করেছে এবং সরকারকে সচেতন করতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে নদী সুরক্ষায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগে নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা; দূষণমুক্ত করার কাজ; নৌপথকে নিরাপদ যাত্রীবান্ধব করার চেষ্টা এবং নোঙরের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন উচ্চ আদালত। যে কারণে দেশের সর্বসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে; মায়ের মমতার মতো নদীর প্রতি যত্নশীল হয়েছে।
আমরা এখন চাইব, কারিগরি কারণে ২৩ মে যদি নৌ নিরাপত্তা দিবস ঘোষণা করা সম্ভব না হয়, তাহলে একে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণা করা হোক। কারণ নদীর নিরাপত্তা শুধু যাত্রী ও পরিবহনের বিষয় নয়; নদীর নিরাপত্তার সঙ্গে নদীর সার্বিক নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। দখল- দূষণ, বালু উত্তোলন, অপরিকল্পিত স্থাপনা, প্রবাহস্বল্পতামুক্ত নদীই হচ্ছে নিরাপদ নদী। ২৩ মে জাতীয় নদী দিবস ঘোষণা করা হলে নদীর সার্বিক ও সামগ্রিক নিরাপত্তার প্রশ্নটি আরও জোরালো হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২৯ বছরে ৫৭০টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৬৫৪ জন মারা গেছেন। এসব ঘটনায় ৫১৬ জন আহত ও ৪৮৯ জন নিখোঁজ হন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে যাত্রীবাহী নৌযানের সংখ্যা ২৩৬টি। ২০১৯ সালে ২৬টি নৌদুর্ঘটনায় তিনজন মারা গেছেন। ৩৩ জন আহত ও ২০ জন নিখোঁজ হন। ২০১৭ সালে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে ৫০ বছরে দেশে নৌদুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ হাজার ৫০৮ জন। বিগত বছরগুলোয় বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে সংঘটিত নৌদুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে নৌযানের ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন, ডিজাইন না মেনে নৌযান নির্মাণ, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালপত্র এবং যাত্রী বহন, মাস্টার-সারেংদের অদক্ষতা ও অসতর্কতা, সংঘর্ষ, নদীর নাব্য সংকট, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, নৌযান মালিকদের দায়িত্বহীনতা এবং নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে চিহ্নিত করা হয়।
দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, দুর্ঘটনার এই কারণগুলো কিন্তু এখনো দৃশ্যমান। বিআইডব্লিউটির আইন ও নীতিমালা রয়েছে। তবে আইনগুলো সময়োপযোগী করে নেওয়া দরকার। ‘দি ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬’ অধ্যাদেশের পঞ্চম অধ্যায়ের ৫৮ (এ) ধারায় যাত্রী ও ক্রুদের জন্য জীবন বীমার কথা বলা থাকলেও, প্রয়োজনীয় আর্থিক কাভারেজের পরিমাণ উল্লেখ নেই। এছাড়াও বিদ্যমান আইনে ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া যাত্রী পরিবহন করা, প্রশিক্ষিত চালক বা ইঞ্জিনিয়ার ব্যতীত জাহাজ চালানো অথবা ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করার জন্য যে ধরনের শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা আছে তা অপর্যাপ্ত। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার শাস্তি হিসেবে (‘দি ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬’ ধারা ৬৬-৬৭ অনুযায়ী) দুই থেকে তিন বছর জেল এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে, তা অপ্রতুল। পরিবহন মালিকদের গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
আবহাওয়া মাঝে মাঝেই বৈরী হয়ে উঠে। এদিকে নৌপথের সিগনালিং বা সংকেত ব্যবস্থা নাজুক। এর ওপর ফিটনেসবিহীন অসংখ্য নৌযান চলাচল করছে। ঈদের সময় পুরনো ও চলাচলের বৈধতা নেই এমন নৌযানগুলো পালিশ করে যাত্রী পরিবহন করে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এটা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। নৌনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন।
ত্রুটিপূর্ণ, সার্ভেবিহীন ও অনিবন্ধিত লঞ্চসহ সব ধরনের অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, দুর্যোগ মৌসুম বিবেচনায় ঈদের আগে অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে নৌপথে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু রাখার বিকল্প নেই। লঞ্চের চালক এবং স্টাফদের যথাযথ প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্স প্রাপ্ত হতে হবে। তাদের শারীরিকভাবেও উপযুক্ত থাকতে হবে, যাতে বিপদকালীন সময়ে তারা যাত্রীদের সাহায্য ও দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান এবং শারীরিক উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য নিয়মিত বিরতিতে পরীক্ষা করতে হবে।
সীমিতসংখ্যক যাত্রীবাহী লঞ্চের কারণে প্রতিনিয়ত লঞ্চে ওভারলোডিং হয়ে থাকে। এই ওভারলোডিং থেকে যাত্রীদেরকে বিরত রাখা অত্যন্ত কঠিন। এ ক্ষেত্রে আইন রয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় লঞ্চ চলাচল না করলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। এক্ষেত্রে আবহাওয়া বার্তা মেনে চললে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে। যাত্রীবাহী বৈধ লঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। উন্নততর লঞ্চ সার্ভিস চালু করতে হবে। নৌপরিবহনের উন্নয়নের জন্য এই খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধি করতে হবে। নৌপথে ট্রাফিক সিস্টেমের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কেননা বড় লঞ্চগুলোর দয়ার উপর ছোট লঞ্চগুলো টিকে থাকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক করতে হবে।
বিআইডবিøটিএর উপকূলীয় দ্বীপসমূহে সার্ভিসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা মনে করি, নৌযানের বিজ্ঞানসম্মত নকশা ও ধারণক্ষমতাসম্মত যাত্রী উত্তোলন নিশ্চিত করা গেলে নৌদুর্ঘটনা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। এ ব্যাপারে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অবশ্যই সার্ভেয়ারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সি-সার্ভে সনদ ছাড়া যাতে কোনো নৌযান চলাচল করতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও যাত্রাপথ সুন্দর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, লঞ্চ মালিক সমিতি, বিআইডব্লিউটিএ সহ সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে