সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মৃতি নাট্যোৎসব শুরু

0
8
সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মারক সম্মাননা গ্রহণ করেন আবুল হায়াত
বৈশাখী বিকেলে শিল্পকলা একাডেমি আঙিনায় ভেসে বেড়ায় দেশাত্মবোধক গানের সুর। জাতীয় নাট্যশালার সিঁড়ির পাদদেশে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে শিল্পীরা শুরু করেন পরিবেশনা। অনেকগুলো কণ্ঠ মিলে যায় এক স্বরে। সকলে মিলে গেয়ে শোনান- সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা/সোনা নয় ততো খাঁটি/ বলো যতো খাঁটি তার চেয়ে খাঁটি/বাংলাদেশের মাটি …।
স্বদেশের সেই সুরবাণীকে সঙ্গী করে নাট্যশালা মিলনায়তনের লবিতে প্রবেশ করতেই নজর পড়ে সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইনের প্রতিকৃতি। এই ভাষাসংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতির চারপাশে ছড়িয়ে ছিল শ্রদ্ধার প্রতীকী সুতোয় গাঁথা পুষ্পাঞ্জলি। আর সেই হাস্যোজ্জ্বল মুখচ্ছবির সামনে থাকা প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মৃতি নাট্যোৎসব উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
এভাবেই সুন্দরের ছবি এঁকে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো পদাতিক নাট্য সংসদ আয়োজিত চারদিনের এই নাট্যোৎসব। ১৫তম এ উৎসবে অংশ নিচ্ছে পদাতিকসহ আটটি নাট্যদল। বাকি দলগুলো হচ্ছে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, আরণ্যক নাট্যদল, থিয়েটার, থিয়েটার আর্ট ইউনিট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, বাতিঘর, নবরস, খোকন বয়াতি ও তার দল এবং ভারতের কলকাতার সন্তোষপুর অনুচিন্তন। সব মিলে উৎসবে মঞ্চস্থ হবে ১১টি নাটক।

আগামী রবিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় একাডেমির নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তন, এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল ও স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে বৈচিত্র্যময় প্রযোজনাসমূহ। নাট্য প্রদর্শনীর সমান্তরালে উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে  প্রতিদিন বিকেলে উন্মুক্ত মঞ্চে উপস্থাপিত গান-কবিতার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

নাট্যশালা মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয় প্রখ্যাত অভিনেতা আবুল হায়াত এবং নাট্যকার ও নির্দেশক মান্নান হীরাকে (মরণোত্তর)। মান্নান হীরার পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তার সহধর্মিণী নাদিরা মান্নান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নাট্যজন মামুনুর রশিদ, ম হামিদ ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলি লাকী। সভাপতিত্ব করবেন পদাতিকের সভাপতি তাসনিন হোসাইন তানু।
সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশে আবুল হায়াত বলেন,  সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইনের নামাঙ্কিত এ স্মারক সম্মাননাপ্রাপ্তি আমার কাছে চমকপ্রদ। এটি আমাকে নাট্যমঞ্চে সম্পৃক্ত থাকতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। কারণ, আমি ভেবেছিলাম টিভি নাটক কিংবা অন্য মাধ্যমে বেশি ব্যস্ত থাকার কারণে মঞ্চের সবাই আমাকে ভুলে গেছে। কিন্তু  মঞ্চকে কখনো ছেড়ে যাওয়া যায় না।

দশ বছর বয়স থেকে মঞ্চনাটক করে কিভাবে এটাকে ভুলে থাকি? এই নাট্যমঞ্চে  রয়েছে আমার শ্রম-ঘাম ও মেধা। সেই প্রেক্ষাপটে বলতে চাই, এই মঞ্চে কাজ করতে করতেই মৃত্যুবরণ করতে চাই। তাই এখনো মঞ্চের জন্য লিখে চলেছি। আমার লেখা দুটি নাটকও মঞ্চস্থ হচ্ছে।

মামুনুর রশীদ বলেন, কিছু মানুষের স্মৃতি চির অমলিন রয়ে যায়। তাদের কখনো ভোলা যায় না। তেমনই এক মানুষ সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইন। তিনি এ দেশের সংস্কৃতির গুরুত্বকে উপলব্ধি করেছিলেন। তাই সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করেছেন। অন্যদিকে পর্তুগিজ, ব্রিটিশ বেনিয়া ও পাকিস্তানিরা  যে বাংলা ভাষাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে তিনি সেই ভাষাকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছেন। উদারমনা এই মানুষটির কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
ম. হামিদ বলেন, আমি সৈয়দ বদরুদ্দীন হোসাইনের সরাসরি ছাত্র না হলেও জীবনের যাত্রাকালে তার ক্লাস করেছি। কারণ, তিনি এই দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন। তার চারপাশের মানুষকে নিয়ে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছেন।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে নাট্যশালা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নাটক ‘অন্তরে বাহিরে চিত্রাঙ্গদা’। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয়  থিয়েটার আর্ট ইউনিটের নাটক ‘মাধব মালঞ্চী’। স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় ভারতের সন্তোষপুর অনুচিন্তনের নাটক ‘শীতলার পালা’।
শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন নাট্যশালা মিলনায়তনে উপস্থাপিত হবে ভারতের সন্তোষপুর অনুচিন্তনের নাটক ‘মিস ক্যারেজ’। এক্সপেরিমেন্টাল হলে মঞ্চস্থ হবে থিয়েটারের নাটক ‘পোহালে শর্বরী’। স্টুডিও থিয়েটার হিলে খোকন বয়াতি ও তার দল পরিবেশন করবে ‘কমলা সুন্দরী’।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে