টাউনখাল রক্ষার্থে নোঙর’র ৫দফা দাবির পক্ষে ২৫ সংগঠনের সংহতি প্রকাশ।

0
20

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে বয়ে চলা তিতাস নদী থেকে উৎপত্তি ও তিতাস নদীতে পতিত প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের ঐতিহ্যবাহী টাউনখাল রক্ষার্থে শহরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় করেছে নদী ও প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক সংগঠন নোঙর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় সুরস্ম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সরোদ মঞ্চে এ মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নোঙর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সভাপতি শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোঙর বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নদীপুত্র সুমন শামস, সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন, সম্মিলিত সাস্কৃতিক জোটের আহবায়ক আবদুন নূর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাউছার এমরান, উদীচী সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী স্বপন, জেলা খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দীপক চৌধুরী বাপ্পী, পরিবেশবীদ জাহাঙ্গীর খন্দকার, জেলা নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা রতন কান্তি দত্ত, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট অঞ্চল) বাচিক শিল্পী মো. মনির হোসেন, সাহিত্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা দেলোয়ার। মত বিনিময় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নোঙর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদা মুন্নী।
টাউনখাল রক্ষার্থে নোঙর দীর্ঘদিন থেকে ৫দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে আসছে।
৫দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ১. খালের সীমানা নির্ধারণ ও সীমানা পিলার স্থাপন, ২. দখলদারদের তালিকা তৈরি ও উচ্ছেদ, ৩. নদীর গভীরতা সমান খাল খনন ও নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা, ৪. সিসি বøক অপসারণ ও রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ ও ৫. দুই পাড়ে পায়ে হাঁটার রাস্তা ও সৌন্দর্য বর্ধনের দাবি উত্থাপন করেন নোঙর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ। চলতি বছরের ২৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলা ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ সার্ভেয়ারের মাধ্যমে টাউনখালের সীমানা নির্ধারণ করে লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করেন।
 
সীমানা নির্ধারণের পরে স্বেচ্ছায় নিজ নিজ স্থাপনা ও মালপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ ও লাগাতার মাইকিং করেন জেলা প্রশাসন। তারই প্রেক্ষিতে গত ৫সেপ্টম্বর সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন। মত বিনিময় সভায় শহরের ২৫টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে সুরস¤্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সরোদ মঞ্চ।
সভায় নোঙরের ৫দফা দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর ৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর নির্দেশে ঐতিহ্যবাহী টাউনখাল পুনরুদ্ধারে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলমের বলিষ্ঠ ভ‚মিকায় খালে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।
বক্তারা প্রত্যাশা করেন নোঙরের যৌক্তিক ৫দফা দাবি বাস্তবায়নেও কাজ করবেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক। বক্তারা টাউনখাল পুনরুদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলমান রেখে দখলকারীদেরকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে বয়কট ও তাদের নাম ছবিসহ তালিকা প্রকাশ করার জন্য আহবান জানান।
নোঙর জেলা নির্বাহী সদস্য সোহেল আহাদের সঞ্চালনায় মত বিনিময় সভায় এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য একাডেমির সদস্য রিপন দেবনাথ, শিরিন আক্তার, তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রোকেয়া দস্তগীর, মো. মাহবুবুল আলম উজ্জ্বল, উদীচী সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য কমরেড নজরুল ইসলাম, চেতনায় স্বদেশ গণগ্রন্থাগারের সভাপতি আমির হোসেন, অংকুর শিশু কিশোর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনিসুক হক রিপন, ভারত বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মৈত্রী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার দাস, বাউনবাইরার কতা গ্রæপের এডমিন সোহেল রানা ভূইয়া, এখন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আজিজুল সঞ্চয়, ইসলামী নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসহাক আল মামুন, ভিশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশনের প্রতিনিধি মো. জানে আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোরসালিন চৌধুরী নিহাদ, তিতাস সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সহসভাপতি হৃদয় কামাল, সাংবাদিক প্রদীপ আচার্য, নোঙর জেলা ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান খান টিটু আইসিটি ও অর্থ সম্পাদক শিপন কর্মকার, প্রচার সম্পাদক সোহেল খান, জেলা সদস্য মো. রয়েল, মো. নাসিম মিয়া, মো. হেকিম, মো. হিরো, মো. আজাদ, পাপন প্রমূখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে