সিএস ম্যাপ অনুযায়ী আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুন: খনন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে – মেয়র তাপস

0
33

সিএস ম্যাপ অনুযায়ী আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনর্খনন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস।

এফ এইচ সবুজ: আজ (২৯ জুন) বুধবার নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডস্থিত শহীদ নগর এলাকায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেলের পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মেয়র জানান, আমরা সিএস মানচিত্র (ম্যাপ) দেখে পরিপূর্ণভাবে আদি বুড়িগঙ্গার সীমানা নির্ধারণ করব।

প্রাথমিক পর্যায়ে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের ২.৭ কিলোমিটার অংশের পুনর্খনন কার্যক্রম নেওয়া হবে এবং আমরা এর সঙ্গে সঙ্গে সীমানাটা নির্ধারণ করব, তারপর সীমানা বেষ্টনী দেব এবং এই খনন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনর্খননে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন।

সেই অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে সাড়ে ২১ কোটি বরাদ্দ দিয়ে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে জানিয়ে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, আগামী অর্থবছরে আরো বেশি বরাদ্দ রাখা হবে এবং পরিপূর্ণভাবে যেন খনন করা যায়, সে কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করব। তবে এটা আনন্দের বিষয় যে, আমরা কাজটি শুরু করতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলসহ পুরো কামরাঙ্গীরচর নিয়ে মহাপরিকল্পনার আলোকে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। আদি বুড়িগঙ্গা, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, হাজারীবাগ, চকবাজার ও পুরান ঢাকা ঘিরে কিভাবে একটি নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, কিভাবে নদীর প্রবাহ ও নদী পুনরুদ্ধার করে ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বাসযোগ্য নগরী উপহার দেওয়া যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের খাল-নদী দখলের মাধ্যমে যারা অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন, তারা মনঃক্ষুণ্ণ হতেই পারে। তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি জানানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আমি মনে করি, এর মাধ্যমে সবার উপকার হবে।

ঢাকা শহরের পরিবর্তন হবে। দেশের খাল-নদীগুলো সংস্কার করতে হবে। সংস্কারের নামে কারো ব্যক্তিগত ক্ষতি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের মেয়রদের এমন উদ্দেশ্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগরী ঢাকা শহর।

পরিবেশ ঠিক করে বাসযোগ্য ঢাকা আমাদের গড়তে হবে। ঢাকা শহরকে সুন্দর করার মাধ্যমেই আমাদের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে পুরো বাংলাদেশে। ঢাকাকে একটি উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে খাল-নদী থেকে অবৈধ দখলমুক্তি ও সংস্কারের গুরুত্ব আলোকপাত করে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরকে সুন্দর করে গড়ে তোলার অনেক সুযোগ আমাদের রয়েছে। সে জন্য কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকার মেয়রগণ ঢাকা শহরকে একটি উন্নত নগরী হিসেবে রূপান্তরিত করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েছেন। এরপর নগরীর ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মেয়র তাপস।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, সচিব আকরামুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে