ড. ইউনূস : যুগের শ্রমিক বঞ্চনার ইতিহাস

0
19

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহারের শর্তে শেষ পর্যন্ত এক যুগ ধরে বঞ্চিত কর্মচারীদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সন্দেহ নেই, এই সংবাদ দেশের দীর্ঘতম শ্রমিক বঞ্চনার ইতিহাস উন্মোচন করেছে। কী আছে অনেকটা হঠাৎ এই ঘটনার নেপথ্যে! ১১০টি মামলা করেও যা হয়নি, কর্মচারীরা যখন শেষমেশ আদালতে ড. ইউনূসের কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকম বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন করলেন- তখন এর ফল হয়েছে জাদুকর।

গ্রামীণ টেলিকমের মুনাফার ন্যায্য হিস্যাবঞ্চিত ১৭৬ কর্মচারী তাদের পাওনা পরিশোধের জন্য কোম্পানির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রায় ১২ বছর ধরে ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি। অবশেষে বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেন তারা। শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের পাওনা প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা আদায়ের জন্য তারা ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ১০৪টি এবং হাইকোর্টে ৬টি মামলা করেন। কিন্তু গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূস তার আইনজীবীদের দিয়ে প্রায় ৬ বছর এই বঞ্চিতদের পাওনা পরিশোধ ঠেকিয়ে রাখলে অবশেষে গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানিটিই বন্ধের জন্য আদালতে আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাদের ভাষ্য- যে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নোবেল বিজয়ী, যে প্রতিষ্ঠান যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে আসছে অথচ কর্মচারীদের ন্যায্য হিস্যা দিচ্ছে না- আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন চেয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম।

ওই আবেদনের পরই টনক নড়ে গ্রামীণ টেলিকমের। অবশেষে তারা কর্মচারীদের পাওনা টাকা দিতে সম্মত হয় এই শর্তে যে, তাদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। শর্ত মেনে গত ২৩ মে কর্মচারীরা ১১০টি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। শ্রমিক বঞ্চনা কি অনেকটা স্বভাবগত! কোম্পানির মুনাফায় শ্রমিকদের বঞ্চিত করার অপরাধে ২০২০ সালেও গ্রামীণ টেলিকমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাড়ে সাত হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন। কোম্পানির আরও তিন শীর্ষ সহযোগীকেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি এই জরিমানা গুনতে হয়েছে। এ বছরও তাদের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে মামলা চলমান। শ্রমিকদের লভ্যাংশের টাকা না দেওয়া ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে নির্ধারিত অর্থ জমা না দেওয়ায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গত বছরের সেপ্টেম্বরেও মামলা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। তা এখনো চলমান। প্রশ্ন হচ্ছে, বঞ্চনাকারীদের আইন সাজা দিতে পারে। কিন্তু অভ্যাস বা স্বভাব পরিবর্তন করতে পারে কি? ভবিষ্যৎই তা বলে দেবে।

সুমন শামস : নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি নিরাপত্তার সমাজিক সংগঠন ‘নোঙর’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে