ভারতের কলকাতায় ১ মাস ধরে আটকা ১৫ বাংলাদেশি নাবিক, দেশে ফেরার আকুতি

0
9
দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে নাবিকেরা একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া/সংগৃহীত

ভারতের কলকাতায় একমাস আগে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি মেরিন ট্রাস্ট-১ এর ১৫ নাবিককে কলকাতা থেকে উদ্ধারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেখানে মেরিন ক্লাবের একটি হোটেলে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন তারা। দেশে ফেরার আকুতি জানিয়ে নাবিকরা একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাড়ে ৩ মিনিটের ভিডিওবার্তায় জাহাজ এমভি মেরিন ট্রাস্ট-১ এর প্রধান প্রকৌশলী ফাহিম ফয়সাল জানান, গত ২০ মার্চ ১৫ জন নাবিক পণ্যবাহী কন্টেইনার আনতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজটি নিয়ে কলকাতায় যান।

সেখানে তারা ২৩ মার্চ পৌঁছান এবং পরদিন ২৪ মার্চ কলকাতার নেতাজী সুভাস চন্দ্র ডকে (পণ্য খালাস স্থান) পণ্য বোঝাইয়ের সময় ডুবে যায় জাহাজটি। এ সময় নাবিকেরা দ্রুত নেমে পড়তে সক্ষম হন।

পরে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের মেরিন ক্লাব হোটেলে (সি-ম্যান হোস্টেল) রাখে। তাদের কাছ থেকে পাসপোর্টসহ ডকুমেন্টসগুলো পুলিশ নিয়ে যায়।

তখন থেকে তারা সেখানে একরকম অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। কারো কাছে কোনো উত্তর মিলছে না। তাদের কাছে নেই কোনো অর্থ। শিক্ষাগত সনদপত্রসহ সব পোশাক জাহাজের সঙ্গে ডুবে গেছে।

ভিডিওবার্তায় বন্দিদশা থেকে মুক্তির আকুতি জানিয়েছেন নাবিকেরা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তারা।

ফাহিম ফয়সাল বলেন, তারা কলকাতা ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু দেশে ফেরাতে কেউ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। দেশের মালিকপক্ষ নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ করছে না। হোস্টেলে যে কোনো সময় খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওবার্তায় নাবিকরা দেশে ফিরতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আকুতি জানান।

নাবিকদের একজন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান।

তিনি তার পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলে জানিয়েছেন যে তারা কলকাতায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তিনি জানান, অনেক কিছু জাহাজের সঙ্গে ডুবে যাওয়ায় তাদের সাথে বেশ কিছু ডকুমেন্টস হারিয়ে গেছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নাবিক মিজানুর রহমানের বাবা শরিফুল ইসলামের কথা সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তার ছেলের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবারের পর আর কথা হয়নি।

শরিফুল ইসলাম তার ছেলেসহ অপর নাবিকদের উদ্ধারে সরকারকে অবিলম্বে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে এমভি মেরিনট্রাস্ট–১ জাহাজের মালিক প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাস্ট লিমিটেডের ক্যাপ্টেন সাহিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি কল ধরেননি। মোবাইল ফোনে টেক্সট মেসেজ পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে