খাল দখলদারদের কারাদন্ড দেয়া হবে: মেয়র তাপস

0
6
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দখলদারদেরকে কারাদন্ড দেয়া হবে।

সাপ্তাহিক নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ নগরীর শ্যামপুর খাল পরিষ্কার কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে দখলদারদের উদ্দেশ্যে তিনি আজ এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।   

মেয়র বলেন, ‘দখল ঢাকাবাসীর জন্য একটি বড় সমস্যা। দখলদারদের বিরুদ্ধে আমরা ভবিষ্যতে আরো কঠোর হবো। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আমরা তাদেরকে কারাদন্ড দিতে বাধ্য হবো।’ খাল সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো খালগুলোকে সম্পূর্ণরূপে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ , রক্ষণাবেক্ষণ এবং নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে  বছর বছর নতুন করে খনন বা এগুলো অপসারণ করতে না হয়। সেই লক্ষ্যে আমরা একটি প্রকল্প জমা দিয়েছি। প্রকল্পটি প্ল্যানিং কমিশন থেকে কিছু মতামত দিয়ে পাঠিয়েছে। আমরা সেগুলো আবার বিচার-বিশ্লেষণ-পর্যালোচনা করে জমা দেবো।

আমরা আশাবাদী যে, এই প্রকল্পটা পাশ হলে স্থায়ীভাবে সমাধানের দিকে আগাতে পারবো। সাথে সাথে খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখলদার মুক্ত করা এবং সেই সীমানা বেষ্টনীগুলো স্থায়ীভাবে স্থাপন করা। এগুলো অত্যন্ত জরুরি। এগুলো যদি করতে পারি তাহলে আমরা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে পারবো।’
এ সময় সড়কের ওপর বিভিন্ন জায়গায় দখলদারদের স্থায়ী পার্কিং বাণিজ্য নিয়ে করা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘আমরা যেখানেই দখল পাচ্ছি সেখানেই অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা সপ্তাহে পাঁচ দিনই দখলমুক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

কিন্তু ঢাকা শহরে এতো জনগোষ্ঠী, এতো জনসংখ্যার চাপ যে, দখল বাণিজ্য একটা বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।  সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছি। এই আগ্রাসনের জন্য ঢাকাবাসীর জীবন নাভিশ্বাস হয়ে ওঠছে। তারপরও আমরা বলিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবো। এতে সকলের সহযোগিতা চাই, ঢাকাবাসীর সহযোগিতা চাই। ঢাকাবাসী যেন আমাদেরকে এ বিষয়গুলো অবগত করেন। তারাও যেন কিছু ভূমিকা নেন। আপনার দোকানের সামনে আপনি বসতে দেবেন কেন?

রাস্তার উপরে যেখানে-সেখানে পাকিং করতে দেবেন কেন? এই বিষয়গুলোতে সকলেই আরো সচেতন হয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করলে, আমরা সফল হবো।’
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘গতবছর আমরা খাল পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা খালগুলো পরিষ্কার, আবর্জনা ও পলি অপসারণ এবং দখলমুক্ত করেছি এবং নর্দমাগুলো পরিষ্কার করেছি। যে সকল জায়গায় অবকাঠামো উন্নয়ন, নর্দমা সংস্কার, নর্দমা নির্মান প্রয়োজন ছিল, নিজ অর্থায়নে আমরা সেগুলোর কাজ আরম্ভ করেছি।

লক্ষ্য করেছেন যে খালগুলো গতবার পরিষ্কার করার পর, এবার আবার ভরে গেছে এবং এমনভাবে ভরে গেছে যে মনে হয়, দীর্ঘদিন এগুলো পরিষ্কার করা হয়নি। এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ও পলি এখানে জমে, যেটা এখন অনুমান করা যাচ্ছে । এবারও আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ আরম্ভ করেছি। কিন্তু শ্যামপুর খালের যে অংশে দাঁড়িয়ে আছি, দেখছেন- এখানে বিভিন্ন জায়গা বিভিন্নভাবে দখল অবস্থায় আছে। আমরা এগুলো এখন দখলমুক্ত করার কার্যক্রম  হাতে নিবো। খালের পর পর্যায়ক্রমে পরবর্তীতে আবার নর্দমাগুলো পরিষ্কার করবো।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। বাসস

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে