এখন থেকে অনুমতি ছাড়া বিদেশি জাহাজ প্রবেশ করলে দেশীয় আইনেই বিচার: মন্ত্রিসভা

0
9

বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের ওপর বাংলাদেশের মানুষের সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের নিমিত্তে ‘টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস (সংশোধিত) অ্যাক্ট, ২০২১’ শীর্ষক সমুদ্র আইনের খসড়া মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সোমবারের (৩ মে) বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে আইনে ৩৫টি ধারা সংশোধন করে সমুদ্র আইনকে আধুনিক করা হয়েছে।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এখন থেকে অনুমতি ছাড়া বিদেশি জাহাজ প্রবেশ করলে দেশীয় আইনেই বিচার হবে, সমুদ্র দূষণের জন্য জরিমানা গুনতে হবে, জাহাজে চুরির ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া আরও সহজ হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম ইউনিট জানিয়েছে, সংশোধিত আইনে ৩৫টি ধারা রয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আইনটি যুগোপযোগী করার নিমিত্ত আধুনিক মেরিটাইম সংক্রান্ত বিষয়াবলি ও প্রযুক্তি যেমন রিমটলি আন্ডার ওয়াটার ভেইকল ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিদেশি জাহাজ বা ডুবোজাহাজের বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ফৌজদারি এখতিয়ার (Criminal jurisdiction) ও দেওয়ানি এক্তিয়ার (Civil jurisdiction) উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগের আইনের কন্টিজিয়াস জোন (Contiguous Zone) এর সংজ্ঞা ও সীমা জাতিসংঘের অনক্লোস (UNCLOS, 1982) এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা হয়েছে। কন্টিজিয়াস জোন এর ব্যাপ্তি ১৮ থেকে ২৪ মাইল করা হয়েছে।

আরো জানিয়েছে, এই অঞ্চলে নিরাপদ অঞ্চল (Safety Zone) নির্ধারণ, সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন স্থাপন সংক্রান্ত বিধানাবলি সংযোজিত হয়েছে। সংশোধিত আইনে সমুদ্র শাসন (Ocean Governance), সমুদ্র অর্থনীতি (Blue Economy), কন্টিজিয়াস জোন নির্দেশনামূলক বিধিবিধান সংযোজিত হয়েছে।

সামুদ্রিক দূষণের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড শাস্তির বিধান ছিল যা সংশোধিত আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বনিম্ন দুই কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এতদিন চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে যে সকল চুরি সংঘটিত হতো তা জলদস্যুতার ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ হতো। সংশোধিত আইনে জলদস্যুতা (Theft, Piracy, Armed Robbery, Maritime Terrorism) এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান পূর্বক এ সকল অপরাধ সংক্রান্ত বিধিবিধান সংযোজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জলসীমা (Territorial Sea) দিয়ে অন্য দেশের জাহাজ ও ডুবোজাহাজের নির্দোষ অতিক্রমণ (Innocent Passage) সংক্রান্ত বিস্তারিত ধারা যুক্ত করা হয়েছে। জলদস্যুতার নিমিত্ত ব্যবহৃত জাহাজে পরিদর্শন, আরোহন, জব্দ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধিবিধান সংযুক্ত করা হয়েছে।

সমুদ্রে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয় তা ভিন্নমাত্রিক হওয়ায় পৃথক মেরিটাইম ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধ বা দুর্ঘটনার সাক্ষী পাওয়া যায় না। এ কারণে অনেক অপরাধের সঠিক বিচার হয় না। তাই এ ধরনের অপরাধ বা দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ভিডিও, ফটো বা রেকর্ডস-কে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

জানা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের ওপর বাংলাদেশের মানুষের সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের নিমিত্ত টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪ প্রণয়ন করেন। তথ্যসূত্র: সারাবাংলা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে