বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়

0
839

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক।

ঢাকায় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে ৪৪তম সীমান্ত সম্মেলন শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, আগামী অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে নতুন দিল্লিতে পরবর্তী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর গুলি করে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা বলেন, প্রাণঘাতী নয় এমন কৌশল অবলম্বন করার ফলে সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা অনেক কমিয়ে আনা গেলেও অপরাধীদের দ্বারা বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে নন মিথানল অস্ত্র ব্যবহার করে।’

পাঁচ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শেষে মঙ্গলবার দুপুরে বিজিবি সদর দফতরে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি নতুন ক্যাম্প নির্মাণে ভারতের সীমান্ত সড়ক ব্যবহার করতে দিয়েছে। সমন্বিত সীমান্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জাল টাকা, গবাদিপশু, কাপড় ইত্যাদি পাচার প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে ভারতের আগরতলা ও আগরতলার প্রান্তে ইটিপি স্থাপন ও বাংলাদেশের আখাউড়া প্রান্তে বক্স কালভার্টসহ ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

উভয় মহাপরিচালক সীমান্ত হাট বৃদ্ধি করাসহ সীমান্ত পর্যটন উৎসাহিত করতে দুই দেশের সরকারকে সুপারিশ করবে বলে জানানো হয়। এছাড়া দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক উন্নত করতে যৌথ প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও পড়ালেখার সুযোগসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণে এক মত পোষণ করা হয়।

সভায় মানব পাচার বন্ধ করাসহ ভারতের কারাগারে আটক বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রকৃত পরিচয় যাচাই-বাছাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য একমত পোষণ করা হয়।

সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ২৬ জন ও ভারতের প্রতিনিধিদলে ১৯ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে