জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা : ২৩-২৫ মার্চ পর্যন্ত আরো চার প্রদর্শনী

0
423
প্রখ্যাত সাহিত্যিক শহীদুল জহিরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ মঞ্চে এসেছে জামিল আহমেদের নির্দেশনায়।

শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ (নোঙরনিউজ) : প্রখ্যাত সাহিত্যিক শহীদুল জহিরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ মঞ্চে এসেছে জামিল আহমেদের নির্দেশনায়। গত ১৪ মার্চ থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধের নাট্যোৎসব’ শিরোনামে এই নাটকটির প্রদর্শনী হয় ২০ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সাড়ে ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাটকটির। এ ছাড়া ১৫ থেকে ১৭ ও ২০ মার্চ বেলা সাড়ে তিনটায় অনুষ্ঠিত হয় আরো চারটি প্রদর্শনী। এবার নাটকটির প্রদর্শনীর সময় আরো বাড়ানো হয়েছে। ২৩-২৫ মার্চ তিন দিনে আরো চারটি প্রদর্শনী হবে নাটকটির। দুই ঘণ্টা সময়ব্যাপ্তির এ নাটকে অভিনয় করছেন ২০ জন শিল্পী। নাটকটি প্রযোজনা করেছে নাট্যসংগঠন স্পর্ধা। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাধীনতার এই মাসে ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ নাটকের মূল গল্পকার শহীদুল জহিরের একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী এবং একাত্তরের সেই ভয়াবহ কালরাত্রি ২৫ মার্চকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে নাটকটি ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শহীদুল জহির-স্মরণে উৎসর্গীকৃত হবে নাটকটির প্রদর্শনী। ২৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ মিনিটে আরেকটি প্রদর্শনী হবে। এরপর ২৫ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দুটি প্রদর্শনী হবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে কালরাত্রিতে শহীদদের স্মরণে।

শহীদুল জহিরের উপন্যাসকে মঞ্চ রূপায়ন প্রসঙ্গে সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘শহীদুল জহির মুক্তিযুদ্ধকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন, সেটা আমার ভেতরে দাগ কেটেছে। এ রকম দাগ খুব কম উপন্যাস বা নাটক ফেলতে পেরেছে। এ নাটক মঞ্চে আনার উদ্দেশ্য একটাই। যুদ্ধটা কেমন ছিল, যুদ্ধবিরোধীরা যুদ্ধ শেষে কীভাবে পুনর্বাসিত হয়েছিল, সেটাই দেখানো। আমাদের ৪৮তম স্বাধীনতাবার্ষিকী সেটার জন্য উপযুক্ত সময়। এই নাটকের মধ্য দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’

গত ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষে শুরু হয় নাটকটির চূড়ান্ত মহড়া। এর আগে অভিনেতা নির্বাচনের জন্য নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসব্যাপী চারটি অভিনয় কর্মশালা আয়োজন করা হয়। যেখানে দেশের বিভিন্ন নাট্য সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৬ নাট্যকর্মী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালা পরিচালনা করেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। কর্মশালা থেকে নির্বাচিত ২০ জন অভিনেতা অংশ নেয় চূড়ান্ত মহড়ায়। নাটকটিতে অভিনয় করছেন সোয়েরী সুলতানা, প্রদ্যুৎ কুমার ঘোষ, আব্দুর রাহীম, শরীফ সিরাজ, মহসিনা আক্তার, সউদ চৌধুরী, সোহেল রানা, যোজন মাহমুদ, উত্তম চক্রবর্তী, সরওয়ার জাহান উপল, পিজু পারভেজ, কৌশিক বিশ^াস, ফয়সাল কবির সাদি, শাহীন সাইদুর, শোভন দাস, সজীব চন্দ্র সরকার, হাসান তাবিন, ইরফান উদ্দীন, সানজিদা মিশি। নেপথ্য কুশীলবের মধ্যে রয়েছেন পোশাক পরিকল্পনা: মহসিনা আক্তার, কোরিওগ্রাফি: অমিত চৌধুরী, মঞ্চ নির্মাণ আমানউল্লাহ খান মোনা।

উল্লেখ্য, ‘স্পর্ধা’ একটি প্রযোজনাভিত্তিক নাট্য সংগঠন। রিজওয়ান নাটকের সফলতার ধারাবাহিকতায় এ সংগঠনটি তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির উপদেষ্টা হিসেবে আছেন অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ। অন্য স্থায়ী সদস্যরা হলেন মহসিনা আক্তার, সাইফুল ইসলাম মণ্ডল, মো. সোহেল রানা এবং মো. আবদুর রাহীম খান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে