পরিবেশে বিষাক্ত ছাপ ফেলে পরিধেয় জুতাজোড়াও!

0
631

বাইরে যাওয়ার জন্য একেবারে তৈরি; আরামদায়ক শুভ্ররঙা শার্ট আর মানানসই প্যান্ট পরে কাঁধে ব্যাগ ঝোলাতে ঝোলাতেই জুতার খোঁজ পড়ে। এমন পোশাকের সঙ্গে ধবধবে সাদা একজোড়া স্নিকারই ভালো মানায়। তাছাড়া স্নিকার ফ্যাশনেবলও বটে। প্রায় আট লাখ অস্ট্রেলিয়ান এক মাস অন্তর একজোড়া স্নিকার কেনেন। অর্থাৎ প্রতি বছর সেখানে বিক্রি হয় ১০ দশমিক ৪ মিলিয়ন জোড়া স্নিকার। শুধু একটি ব্র্যান্ড ধরেই যদি বলা হয়, তবে প্রতি সেকেন্ডে নাইকি বিক্রি করে ২৫ জোড়া জুতা। কিন্তু মনোরম একজোড়া স্নিকার যে পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে অনেকের কাছেই। কাঁচামাল থেকে স্নিকার তৈরি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পরিবেশকে চড়া মূল্য দিতে হয়, যা হয়তো আমরা টের পাই না।

ফ্যাশনের পরিবেশগত প্রভাবের ওপর করা এ গবেষণায় দেখা যায়, একজোড়া রানিং সু তৈরিতে নির্গত হয় ১৩ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড। জুতা তৈরির জন্য ব্যবহূত চামড়া, নাইলন, সিন্থেটিক রাবার, প্লাস্টিক ও ভিসকস উৎপাদনেও যথেষ্ট নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের পরিবেশে।

অন্যান্য জুতার তুলনায় স্নিকারের কারণে পরিবেশে বেশি কার্বন নির্গত হয়। কারণ এ জুতার ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো অংশ রয়েছে এবং সেগুলো তৈরিতে ছাঁচ নির্মাণ, ফোমিং, হিটিং, কাটা ও সেলাই ইত্যাদি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

তাছাড়া জুতাগুলো কোথায় তৈরি হচ্ছে, তাও দেখার বিষয়। সাধারণত চীন থেকে ব্যাপক হারে স্নিকার বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যায়। ২০১৬ সালে বিশ্ববাজারে জুতা উৎপাদনকারীদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল চীনের দখলে। চীনের কারখানাগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, যা পরিবেশগত প্রভাব বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে পরিধেয় স্নিকার যে কাঁচামালে তৈরি, সেগুলোর ধরনভেদে আলাদা প্রভাব থাকে।

প্রথমে বলতে গেলে কাঁচামাল হিসেবে চামড়ার ব্যবহার বেশ ব্যয়বহুল। কারণ কাঁচা চামড়াকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার ধাপে প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ পানি। আর প্রস্তুতকরণের সময় প্রচুর ঘন ও তরল বর্জ্য বের হয়, যা মাটি ও পানির জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া এ প্রক্রিয়ায় বিষাক্ত রাসায়নিক ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু ব্যবহার করা যায়, ফলে তা প্রস্তুতকারীদের স্বাস্থ্যে খারাপ প্রভাব ফেলে, এমনকি ক্যান্সারও হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে ক্রোমিয়ামমুক্ত চামড়া, ভেজিটেবল ট্যানড লেদার বা পাইনাটেক্স (আনারসের পাতা দিয়ে তৈরি)।

বেশির ভাগ স্নিকারে লাইনার হিসেবে ব্যবহূত হয় কৃত্রিম চামড়া। যদিও এটি গবাদি পশুর চামড়ার চেয়ে আপাতদৃষ্টিতে নিরাপদ তবুও এটিকে পরিবেশবান্ধব বলা যাবে না। এগুলো সাধারণত পলিইউরিথিন ও পিভিসি ধরনের প্লাস্টিক থেকে তৈরি হয়। যেগুলোয় এমনিতেই রাসায়নিক উপাদান উপস্থিত এবং জীবাণুবিয়োজ্য নয়। তাই কৃত্রিম চামড়া ব্যবহারের পরিবর্তে পাইনাটেক্স, শণ, পাট, উল বা অর্গানিক তুলা সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।

বেশির ভাগ স্নিকারের সোলে কৃত্রিম রাবার ব্যবহার করা হয়। এগুলো মূলত পেট্রোলিয়ামের উপজাত থেকে তৈরি ও রাসায়নিক যৌগ দ্বারা মিশ্রিত। অন্যান্য কৃত্রিম উপকরণের মতো রাবার তৈরিতেও শক্তি ও পানি ব্যবহূত হয় এবং তৈরি হয় বর্জ্য। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক রাবার ব্যবহার করলে প্রকৃতির প্রতি সদয় আচরণ করা হবে।

সূত্র: গার্ডিয়ান

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে