আশুগঞ্জে মেঘনা নদী ভরাট করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে এপিএসসিএল!

0
57
মেঘনা নদী ভরাট করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে এপিএসসিএল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) বিরুদ্ধে মেঘনা নদী ভরাট করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আগের অধিগ্রহণ করা জমি ভরাট করেই নির্মিত হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। 

পরিবেশবাদী সংগঠনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলা প্রশাসন বলছে, ভরাট করা জায়গাটি নদীর হলে বন্ধ করে দেওয়া হবে প্রকল্পের কাজ।

জেলার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর দিকে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের পুরনো সীমানাপ্রাচীর থেকে নদীর ভেতরের দিকে প্রায় ২৫০ ফুট প্রস্থ এবং প্রায় দুই হাজার ফুট দীর্ঘ এলাকাজুড়ে নতুন করে নদীবক্ষে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে বালু ভরাট করার কাজ চলছে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমন শামস। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নদী রক্ষার বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। নোঙর এর আন্দোলনের পরে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট দেশের সকল নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে। এর পরে দেখেছি নদীর জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমন সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ মেঘনা নদীর জায়গা দখল কর পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের নদী ভরাট নদী উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করবে। আমরা দেশের যে কোন জেলায় নদীর জায়গা দখল করে এ ধরণের স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নোঙর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি শামীম আহম্মেদ বলেন, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি মেঘনা নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলতে চেষ্টা করলে আমারা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ্ বলেন, জায়গাটি ভরাট করা হলে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে ভরাট করা জায়গাটি নদীর কিনা তা নির্ধারণে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ,এফ,এম সাজ্জাদুর রহমানের দাবি, নদীর নয় বরং আগের অধিগ্রহণকৃত জায়গাতেই দেয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট করা হচ্ছে।

নদী দখল করে নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ হলে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা প্রাচীন চর সোনারামপুর ভাঙনের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা গ্রামবাসীদের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে