বিলুপ্তের পথে শরীয়তপুর জাজিরা খাল

0
72
ছবিতে বর্জ্যপূর্ণ যে নোংরা খালটি দেখা যাচ্ছে, এটি একটি ঐতিহাসিক খাল।

ছবিতে বর্জ্যপূর্ণ যে নোংরা খালটি দেখা যাচ্ছে, এটি একটি ঐতিহাসিক খাল। শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় প্রাচীন এই খালটির অবস্থান। পাশেই জাজিরা বাজার। পূর্বদিকে যে ব্রিজটি দেখা যাচ্ছে এর ১০/১২ টি বাড়ির পরেই পদ্মার শাখা নদী।

আজ থেকে ৪৫ বছর আগে পুরোটাই ছিল প্রমত্তা পদ্মা নদী। শীতকালেও খালটিতে প্রচুর পানি থাকতো। খাল দিয়ে অসংখ্য নৌকা চলাচল করতো। পরে ধীরে ধীরে পদ্মার উপর চর জেগে ওঠে। গড়ে উঠতে থাকে নানা নামের গ্রাম। অতঃপর প্রমত্তা পদ্মা পরিণত হয় শাখা নদীতে। খালটি জাজিরা উপজেলার কবিরাজ কান্দির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মুন্সিকান্দির কাছে বাঁক নিয়ে নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের উত্তরদিক দিয়ে সোজা চলে গিয়ে আবার বাঁক নিয়েছে দক্ষিণ দিকে।

মালত কান্দি নামের গ্রাম ভেদ করে সোজা চলে গেছে শরীয়তপুর হাইওয়ে সংলগ্ন মীরবহর গ্রামকে পাশে রেখে বেইলি ব্রিজের নিচ দিয়ে হাঁসের কান্দি গ্রামের সীমানায় গিয়ে মিলিত হয়েছে কীর্তিনাশা নদীর সঙ্গে। কীর্তিনাশা নদীর ওপারের গ্রামটিন নাম শোলপাড়া। এর আরেকটি শাখা প্রবাহিত হয়েছে জপসা-পালের চর ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে। সেখানে নানা বাঁক নিয়ে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের শেষ সীমানায় গিয়ে পুনরায় মিলিত হয়েছে নড়িয়া সংলগ্ন কীর্তিনাশা নদীতে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রাচীন এই খালটির এরকম দৈন্যদশা কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কথা বললাম জাজিরা পৌরবাসীর কয়েকজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তাঁরা তাঁদের সহজ সরল ভাষায় জানালেন– এর আগের এমপি বিএম মোজাম্মেল হক পদ্মার শাখা নদী এবং এই খালটি খননের জন্য প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলেন। কিন্তু তিনি নদী এবং খাল খননের নামে ভেকু দিয়ে শুধু চেঁচেছেন। কোনো খননই করেন নি। ‘লোক দেখাইন্যা কিছু কাজ কইরা বেশিরভাগ টাকা মাইরা খাইছেন (তাঁদের ভাষায়)।’

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ তাঁর একটি ডায়েরিতে লিখেছিলেন–‘যে কোনো মূল্যেই হোক বাংলাদেশের খাল-বিল-নদী-নালা এবং নৌকাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাহলে গ্রামাঞ্চলে পণ্য পরিবহনে সহজ হবে। সাধারণ মানুষ অবসরে নৌবিহারও করতে পারবে।’ এখন নৌকার সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। তাঁদের এমপি-মন্ত্রীরা যদি এ কাজগুলো না করতে পারেন। তাহলে কারা করবে? গ্রামদেশে এখন মাটির খুব সংকট। কেউ বাড়ি বানাতে চাইলে মাটি পাচ্ছেন না। ফসলি জমি কেটে মাটি সংগ্রহ করছেন। ক্ষতি হচ্ছে কৃষি জমির। অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবে কৃষি জমির সংকট। যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। সরকারকে এখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

আনোয়ার ফরিদী

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে