টাউনখাল রক্ষায় কার্যকর কর্মসূচীর লক্ষ্যে নোঙর’র জরুরী সভা

0
48

ঐতিহ্যবাহী টাউনখাল রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচী দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এমনকি গত ২১ আগষ্ট, ২০২০ নোঙর’র উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে শহরের খালপাড় থেকে গোকর্ণঘাট পর্যন্ত যৌথ পরিদর্শন শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করেন টাউনখালের সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা, উচ্ছেদ, দুপাড়ে পায়ে হাঁটার রাস্তা, নদীর সমমান খনন, নৌ চলাচলসহ নান্দনিক করে তুলতে একটি প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ পর্যন্ত কোন ধরনের কার্যক্রম দৃশ্যায়িত না হওয়ায় নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি শামীম আহমেদ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে টাউনখাল রক্ষায় কার্যকর কর্মসূচীর লক্ষ্যে সংগঠনের জরুরী সভা আহবান করেন।

আজ ১৬ জানুয়ারী ২০২১ শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিতাস নদীর পাড়ে দিন ব্যাপী কর্মসূচীতে নোঙর রাজঘাট ইউনিটে মোঃ রয়েল মিয়া, কান্দিপাড়া ইউনিটে ইয়ারন ভূইয়া আদনান, কালাইশ্রীপাড়া ইউনিটে জয় সূত্রধর সানিকে ইউনিট সদস্যদের সম্মতিক্রমে সমন্বয়ক নির্বাচিত করা হয়।

টাউনখাল রক্ষার কর্মসূচী বাস্তবায়নে কামরুজ্জামান খান টিটু আহবায়ক, মোঃ রয়েল মিয়া সদস্য সচিব, জয় সূত্রধর সানি ও ইয়ারন ভূইয়া আদনানকে সদস্য করে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

এ সময় সংগঠনের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনিট গঠনের গুরুত্ব ও সুফল নিয়ে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেদা মুন্নী বলেন, বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করছে নোঙর’র বিভিন্ন ইউনিট। এভাবেই প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ইউনিট গঠন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি পরিচ্ছন্ন জেলা হিসাবে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে নোঙর অঙ্গিকারবদ্ধ এবং সর্বসাধারনের অংশগ্রহণ ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা পেলে অচিরেই বদলে যাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃশ্য।

জেলা কমিটির সভাপতি শামীম আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, জেলার নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্বেও কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার অভাবে টাউনখালসহ জেলার অসংখ্য খাল প্রায় বিলুপ্তির পথে। নদীর শিরা-উপশিরা খ্যাত খালের মুখে শহর রক্ষার নামে সুইচ গেইট স্থাপন, স্বল্প উচ্চতার কালভার্ট নির্মাণ করে পানি প্রবাহ ও নৌযান চলাচল বন্ধ করে খাল গুলো ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। খাল গুলো রক্ষায় এখনই সঠিক ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নদী রক্ষা কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নদীর সীমানা নির্ধারণ করে সীমানা পিলার স্থাপন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সঠিক নিয়মে নদী ও খাল খননে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা কামনা করেন।

নদী দূষণ দখলের বিরুদ্ধে সংগঠন সদস্যদের আরো সোচ্চার হতে আহবান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক শিপন কর্মকার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শান্তা ইসলাম, সদস্য কামরুজ্জামান খান টিটু, রাজঘাট শিমরাইকান্দি, কান্দিপাড়া ও কালাইশ্রীপাড়া ইউনিটের সদস্যরা। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা কমিটির সদস্য নির্জয় হাসান সোহেল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে