সৈয়দ জামিল আহমেদের নাটক ‘৪.৪৮ মন্ত্রাস’ তীব্র অস্থির সময়ের গল্প

0
57

অভিজিত রায়, দীপন থেকে বিশ্বজিৎ পর্যন্ত একের পর এক অপ্রত্যাশিত হত্যার ঘটনা ঘটছে। যৌন হয়রানির শিকার হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে নুসরাত থেকে শুরু করে অগণিত নারী। নির্দেশকের শিল্প কুশলতায় মঞ্চের আলোয় উঠে আসে সহিংসতার শিকার এসব মানুষের মুখ।

ব্রিটিশ নাট্যকার সারাহ কেইনের লেখা ‘৪.৪৮ সাইকোসিস’ নাটক অবলম্বনে ‘৪.৪৮ মন্ত্রাস’ নাটকটি মঞ্চায়নে উঠে আসে বাংলাদেশের সমসাময়িক সহিংসতার আখ্যান। দেশের খ্যাতিমান নাট্যনির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় মঞ্চে এলো নতুন এ নাটক।

একজন তরুণ শিল্পীর বিষণ্নতায় ভরা জীবন ও জীবন ভাবনা নিয়ে নাটক ‘৪.৪৮ মন্ত্রাস’। প্রথাবদ্ধ ছকের বাইরে নির্মিত এ নাটক। নাটকে কোনো চরিত্র নেই। নেই প্রথাগত গল্প কিংবা নাটকীয়তা। দীর্ঘ এক কথন নাটকটিতে একীভূত হয়েছে। স্বগতোক্তি, দৈনন্দিন জীবনের কথোপকথন এবং দর্শকদের সরাসরি সম্বোধন করে বিবরণ।

এক তরুণ শিল্পীর মনস্তত্ত্বে ভর করে বিষণ্নতা। কারণ সে সমাজের খুন, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, গুম, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, বিশৃঙ্খল অনিশ্চয়তা, ব্যাপক সহিংসতার সাক্ষী।

মঞ্চে একজন অভিনেত্রী বলে যান তরুণ শিল্পীর আত্মকথন। বিষাদের সুরের সঙ্গে ধ্বনিত হয় জীবন নিয়ে তার বিতৃষ্ণার কথা। যন্ত্রণাদগ্ধ জীবনকে সে শেষ করে দিতে চায়। ওই তরুণ শিল্পীর ভাবনাটা নির্দেশক জামিল আহমেদ মঞ্চে কয়েকজন কোরিওগ্রাফারের মাধ্যমে সুনিপুন দক্ষতায় দৃশ্যায়িত করেছেন। পুরো নাটকে দুই চরিত্রের সংলাপে মাত্র কয়েকটি দৃশ্য। ডাক্তারের সঙ্গে কথোপকথন। কখনো কখনো তীক্ষ দৃষ্টিতে দর্শকের উদ্দেশে বলা হয় দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা। যেন দর্শকরাও এই সময়ের মুখোমুখি হয়ে যায়।

নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মহসিনা আক্তার, সাক্ষ্য শহীদ, সোহেল রানা, শারমিন আক্তার শর্মী, কৌশিক বিশ্বাস, মুরতাজা যুবাইর, ইরফান উদ্দিন, তানভীর আহমেদ ও হাসান মুহাম্মদ তাবিন।

বেইলি রোডে মহিলা সমিতি মঞ্চে নাটকটির নিয়মিত প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১৪ দিন। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে নাটকটির প্রদর্শনী। নাটকটি রূপান্তর করেছেন শাহমান মৈশান ও শরীফ সিরাজ। প্রযোজনা করেছে নাট্যদল স্পর্ধা।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সংবাদকর্মীদের জন্য নাটকটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী শেষে সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘প্রতিনিয়ত যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে এই বাংলাদেশে, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। এই বাংলাদেশ আমরা মানতে পারি না। পদ্মা সেতু করায় আমরা যেমন আনন্দিত হই, তেমনি ব্যথিত হই সহিংসতার ঘটনায়। বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতায় দর্শকদের সামনে নাটকটি উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে