ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে

0
157

সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙনের মধ্যে দিয়ে বড়-বড় নদীগুলোর পানির হ্রাস পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু হয়েছে।


যদিও, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাঁচটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলার আটটি পয়েন্টে এখনও প্রধান নদনদীর পানির স্তর বিপদ সীমার (ডিএম) উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, জেলা প্রশাসন উত্তরাঞ্চলীয় আটটি জেলাতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে।

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট বিভাগের বিডব্লিউডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বাসস-এর সাথে আলাপকালে জানান, যেসব জেলায় আজ থেকে বন্যার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে সেসব অঞ্চলে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিডব্লিউডিবির গাইবান্ধা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘন্টা বন্যা পরিস্থিতি যে উন্নতি হচ্ছে সেটি দৃশ্যমান হয়েছে, কারণ জেলার সকল বন্যা পর্যবেক্ষণ পয়েন্টে প্রধান নদ-নদীগুলোর পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে।

বিডব্লিউডিবির রংপুর জোনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ আজ বাসসকে বলেছেন, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার বড় নদীগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি বিক্ষিপ্ত স্থানে নদীভাঙন দেখা গেছে।

ঘোষ আরও বলেন, ভাঙ্গনের কবল থেকে নদীতীর রক্ষায় বেশ কয়েকটি পয়েন্টে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এই অঞ্চলের ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণে আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে কাজ শুরু হবে। গত ২৪ ঘন্টায় ধরলার পানি কুড়িগ্রাম ও ঘাগটে ৫ সেন্টিমিটার, গাইবান্ধায় ও ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়ায় ১৩ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার কমেছে।

এছাড়াও, আজ সকাল ৯ টা পর্যন্ত যমুনার পানির স্তর ফুলছড়িতে ১ সেন্টিমিটার, বাহাদুরাবাদে ৩ সেন্টিমিটার এবং সারিয়াকান্দিতে ১ সেন্টিমিটার এবং কাজিপুরে ২ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্রহ্মপুত্রর পানি সকাল ৯ টায় বিপদ সীমার ওপর দিয়ে, চিলমারীতে ১৯ সেন্টিমিটার, কুড়িগ্রামের ধরলা ৩৯ সেন্টিমিটার এবং ঘাগোট গাইবান্ধা পয়েন্টে বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার সকাল ৯টায় যমুনা ফুলছড়িতে ৪৭ সেন্টিমিটার, বাহাদুরাবাদে ৫৩ সেন্টিমিটার, সারিয়াকান্দিতে ৬০ সেন্টিমিটার, কাজিপুরে ৩০ সেন্টিমিটার এবং সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন রংপুর বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত জেলার বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ আরও জোরদার করেছে।

বাসস-এর সাথে আলাপকালে কুড়িগ্রামের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল হাই সরকার জানান, জেলার দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ৬২ হাজার ৬৩০ টি পরিবারের প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আবদুল হাই বলেন, বন্যার পরিস্থিতি এখন অব্যাহত থাকায় আমরা ১৯০ টন চাল, ১৩ লাখ টাকা, ৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, বাচ্চাদের খাবারের জন্য ৬ লাখ টাকা এবং ৯ লাখ পশুখাদ্য বিতরণ করছি। গাইবান্ধার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বাসসকে জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্যা পরিস্থিতিতে জেলার ৬০ হাজারেরও বেশি পরিবারের প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে আজ থেকে বন্যা পরিস্থিতি উন্নত হওয়া শুরু করেছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৪৪০ টন চাল, ৮ লাখ টাকা, ৬ হাজার ৬৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, বাচ্চাদের খাবারের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং ৯ লাখ টাকার পশুখাদ্য জন্য বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।

একইভাবে, জেলা প্রশাসন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় উত্তরের অন্যান্য জেলার বন্যাকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। বাসস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here