দূরে থেকে ভালোবাসার পহেলা বৈশাখ

0
276

এসে গেল বাঙালির সবচেয়ে বড় আনন্দোৎসবের দিন পহেলা বৈশাখ৷ তবে এবার উৎসব হবে সামাজিক দূরত্ব মেনে, ‘ঘরোয়া’ পরিসরে৷

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ায় নববর্ষ উদযাপনের সকল আয়োজন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল চীন৷ ধীরে ধীরে করোনা ছড়িয়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশে৷ আনন্দ-বিনোদনের সব আয়োজন গুটিয়ে ঘরবন্দি হয়েছে সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতির মানুষ৷ করোনাকে এড়িয়ে জীবনরক্ষার এটাই যে সবচেয়ে কার্যকর উপায়!

বাংলাদেশেও বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছে করোনা ভাইরাস৷ আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন৷ জীবনকে সামাজিক দূরত্বের শৃঙ্খলে আরো কঠোরভাবে আবদ্ধ করা এখন আরো দরকার৷ 

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানও হয়েছে স্থগিত, তিন দফায় বেড়েছে ছুটি, মসজিদ-মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ে না গিয়ে সরকারি নির্দেশ মেনে ঘরেই উপাসনা শুরু করেছে ধর্মানুরাগী মানুষ৷ ১৪২৭ সালকে সেই নিয়ম মেনেই বরণ করতে চলেছে বাঙালি৷ 

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের উদ্যোগে রমনার বটমূলে ‘‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো” গেয়ে শুরু হবে না নববর্ষ উদযাপন৷ চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাও বের হবে ন এবার৷ শহর-গ্রামের নানা প্রান্তে বসবে না বৈশাখী মেলা৷

বরং অতি উৎসাহী কেউ যাতে নববর্ষ উদযাপনে বেরিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী৷ 

এমন পহেলা বৈশাখ কখনোই দেখেনি বাংলাদেশ৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে, ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণও গেছে বহু  মানুষের, তবু এতদিন প্রতি পহেলা বৈশাখে প্রাণের টানে নববর্ষ উদযাপনে বেরিয়ে পড়েছে মানুষ৷ 

করোনা–সংকটে সারা বিশ্ব এখন উৎসবহীন৷ বাংলাদেশেও থাকছে না আয়োজনের ঘনঘটা৷ তবে ঘরে বসে যেভাবে অফিসের কাজ চলছে, উপাসনা চলেছে, সেভাবে উৎসব উদযাপনে কোনো বাধা নেই৷ বাধা নেই দূর থেকে বাঙালির সংস্কৃতি আর মানুষকে ভালোবাসাতেও৷ আশীষ চক্রবর্তী, ডয়চে ভেলে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে