বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন

0
29
দেখা হয়েছে

দুই বছর ১ মাস ১৯ দিন পর মুক্তি পেয়েছেন ২ মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। 

বুধবার (২৫ মাচ) বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে গুলশানে নিজ বাসা ফিরোজার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। 


ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১-এর উপধারা ১ ধারা অনুযায়ী বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দণ্ড স্থগিত করে ৬ মাসের জন্য বেগম জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, মুক্ত থাকাকালীন খালেদা জিয়াকে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। 


এর আগে গতকাল বিকেল ৪টায় গুলশানে নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বেগম জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে তাঁকে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দিতে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এর পরই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। বিশেষত, দলীয় প্রধানের মুক্তির খবরে স্বস্তি ফিরে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। 

বেগম জিয়ার মুক্তির খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা করণীয় চূড়ান্ত করতে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন। 


বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে দেশের মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্থি এনে দিয়েছে। তবে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির বিষয়টা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সেটা আমরা আলোচনা সাপেক্ষে জানতে পারবো।’সারা দেশে যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে জনমনে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ঠিক এমন সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তাতে করে দেশবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান মির্জা ফখরুল।


উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট- এই দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গেল বছরের এপ্রিলে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে গত প্রায় ১১ মাস ধরে সেখানেই কারা নজরদারিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি

আপনার মন্তব্য লিখুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন