তিতাস নদী খননের অভাবে বালু চরে পরিণত হয়েছে!

0
92
দেখা হয়েছে
তিতাস নদী

এককালের খরস্রোতা নদী এখন মৃত্যুপ্রায়। নেই খননের উদ্যোগ। এর ফলে বিরূপ প্রভাব পড়েছে নদী তীরবর্তী মানুষদের ওপর। প্রতিবছর নদীর পানি শুকিয়ে যে হারে চর জেগেছে তাতে বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে এ অঞ্চল কয়েক ধাপ পিছিয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন যাবত খননের অভাবে নদীর তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে অসংখ্য ধু-ধু বালুচর। শুকনো মৌসুমে নদীর কোথাও কোথাও একেবারে পানি থাকে না। বিশেষ করে বালুচরের সৃষ্টি হওয়ায় ঝগড়ারচর ও ঘাগুটিয়া অঞ্চলের প্রায় ২০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায় এবং পানির অভাবে মৌসুমের আবাদকৃত ফসলের উৎপাদন ৫০ শতাংশ হ্রাস পায়।

অপরদিকে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীর ‘দু’ ক‚ল উপচে পড়ায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়। খরা মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ পুকুর,খাল বিলের পানি ব্যবহার ও খাওয়ার কারণে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের পানি ধরে রাখার জন্য নদীতে ড্রেজিং করে গভীরতা বাড়াতে হবে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির জন্য দেখা দিবে হাহাকার। এদিকে এ অঞ্চলের পুকুর খাল বিল নালায় পানি সংকটে জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও নদীর দুই পাড়ে বসবাসকারী মানুষ পরিবেশ বিপর্যস্তের মধ্যে বসবাস করছে।

এভাবে সংস্কার বিহীন ঝগড়ার গ্রামের নদীর বিপর্যয়ের কারণে কৃষি প্রধান এ অঞ্চলে অধিক ফসল উৎপাদনের আশা শেষ পর্যন্ত আশাই থেকে যাচ্ছে। এ নদীর তলদেশে জমেছে পলি। শুষ্ক মৌসুমে নদীটির বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। এতে নৌচলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও একেবারে পানিশূণ্য হয়ে পড়েছে নদী। খরস্রোতা নদীটি এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। বিশেষ করে এই বছর চাষীরা গম, ভুট্টা,ধানসহ রবি ফসলের আবাদ করেছে। এই তিন ফসলে সেচ বেশি প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় ফসলের সেচ দেয়া যাচ্ছে না।

মৌসুমের শুরুতে নদীর পানি কমে গেলে শত শত সেচযন্ত্র অচল হয়ে পড়ে। এতে ব্যহত হয় চাষাবাদ। বর্তমানে নদী পাড়ের কয়েক লক্ষ মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে খরা। এ এলাকার প্রায় ১৫ হাজার জেলে পরিবার নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় তাদের সে পথও বন্ধ হয়ে গেছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই এখন হঠাৎ করে পেশা পরিবর্তন করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সামগ্রিকভাবে সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই অঞ্চলের এক সময়ের খর¯্রােতা এই নদীর সংস্কার প্রয়োজন। বছর বছর পর্যায়ক্রমে এলাকা ভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচী হাতে নিলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সহ বর্তমানে সৃষ্ট নৌচলাচল সংকট থাকবে না। প্রতি বছর ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে ব্যাপক এলাকা। ভূক্তভোগী মহলের মতে এই অঞ্চলের বিশেষ করে হোমনা উপজেলার ১০ লাখ জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর স্বার্থে নদীটি খনন করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় লেকজন বলেন, এককালের খরস্রোতা নদী এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। ফলে যার বিরুপ প্রভাব পরায় সেচ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। এ অঞ্চলে বসবাসকারী লোকজন জানান,খরায় বিশুদ্ধ পানির জন্য বসানো নলকুপ গুলোতে পানি উঠে কম। এছাড়াও কোন কোন নলকুপে পানি উঠে না। সেচ কাজের গভীর নলকুপে কম পানি উঠায় সময়মত ফসলের জমিতে সেচের পানি দেয়া যায়না। ফলে ফসলের উৎপাদন কম হচ্ছে। আগে ১০ ফিট নিচে পানির স্তর পাওয়া যেত এখন ৫০ ফিটের বেশি গভীরে গিয়ে পানির স্তর পাওয়া গেলেও তেমন পানি উঠে না।সূত্র : আলোকিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার মন্তব্য লিখুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন