তালতলীতে এসে হতাশ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান।

0
104
দেখা হয়েছে

বরগুনার তালতলী এসে হতাশ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, বুড়িশ্বর,বিষখালী ও পায়রা নদী ঘুরে দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি। নিশানা বাড়িয়া ইউনিয়নের বড় অংকুজান পাড়া গ্রাম বাসি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আয়োজনে, শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত বুড়িশ্বর ও বিষখালী পায়রা নদী সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা ও পরিবেশ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, নদী-নালা বাদ দিয়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশের অস্তিত্বকে কল্পনা করা যায় না।

এসব নদী নালা বাঁচিয়েই সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অব্যাহত রাখতে হবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, আইসোটেক ও পাওয়ার চায়না নদীর জমি দখল করে যা করেছে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখলে তিনি এ প্রকল্প কিছুতেই হতে দিবেনা।

তারা নদী মেরে ফেলে যে অন্যায় করেছে তা কেউ মেনে নিবেনা এবং যারা এর সাথে যোগসাজশ করেছে তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। পরে তালতলী উপজেলা পরিষদের পায়রা সভা কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সেলিম মিঞা (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের দপ্তর প্রধান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় উন্নয়ন কর্মীরা উপজেলার প্রধান প্রধান নদীও খাল ঘিরে চলমান দখল বাণিজ্য ও অবৈধ স্থাপনার চিত্র তুলে ধরে দ্রুত তা উচ্ছেদের দাবি জানান। সভায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার সকল দপ্তর প্রধানদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেখানে যাই করবেন সাবধানতার সাথে করবেন। নদীর অস্তিত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশ নদী কমিশন সর্বোচ্চ সোচ্চার রয়েছে। কোনো কর্মকর্তার অসাবধানতার কারণে কোনো নদীর কোনোরূপ ক্ষতি হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কাউকে ছার দেয়া হবেনা এবং তিনি ঘোষণা দেন আইওসেটেকের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এ সময় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদারের সফরসঙ্গী হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ৪৮ নদী সমিক্ষা প্রকল্পের প্লানার,মো. মতলুবুর রহমান,ড.খ ম কবিরুল ইসলাম, উপ পরিচালক জা ন র ক ।মো. সাজিদুর রহমান, এক্সপার্ট পানি বিশেষজ্ঞ বাপা জেনারেল সেক্রেটারি শরীফ জামিল প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, বরগুনায় সুদীর্ঘ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় অসাধু ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে খাগদন নদী, খাগদন ভাড়ানীখালসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু নদী ও খাল দখল করে বড় বড় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমি দস্যুরা। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় মূল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাগদন নদী ও খাগদন ভাড়ানী খালটি। এসব নদী দিয়ে এক সময় বড় বড় নৌযান চলাচল করলেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না।

তা ছাড়া পায়রা নদী দখল ও খাল মেরে ফেলা কয়েক হাজার গাছ কেটে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের কাজ চলমান রেখেছে আই সো টেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানী লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

আগের লেখা অস্ট্রেলিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৩
পরের লেখা ঢাকার চারপাশের নদীর পাড়ে সবুজ বেষ্ঠনী গড়ে তুলবে সরকার।
শেয়ার

আপনার মন্তব্য লিখুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন